[url=http://www.gulfup.com/?AomQ4i][img]http://www.gulfup.com/G.png[/img][/url]

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

না-কবিতা


না-কবিতা

এই দেখ এসে গেছি
লিখেছি যে সদ্য
অন্তে তে মিল আছে
নয় এটা গদ্য।

খুঁজে পেতে এনেছি যে
সুকমারী ছন্দ
পদ্যে তে তাই পাবে
টক টক গন্ধ।

কেউ বলে বড় বাজে
লেখা কর বন্ধ
নাক তুলে কেউ বলে
পড়ে নেই আনন্দ।

আরো বলে শোন মেয়ে
বলছি যে স্পষ্ট
সব মানে বোঝা গেলে
কবিতাটা নষ্ট।

আমি বলি দুর ছাই
এর বেশি জানি না
ভাবি যাহা লিখি তাহা
কবিতা তো বলিনা।

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

"তুই" দিয়ে আজ ভরিয়ে দে না, আমার যত শূন্যতা সব


"তুই" দিয়ে আজ ভরিয়ে দে না, আমার যত শূন্যতা সব

বন্ধু, আমার কথাবিহীন মৌন প্রহর বদলে দিবি মুখরতায়?
চোখের কোণের লাল গোধূলি রাঙিয়ে দিবি সাতটি রঙে?
আমার উদাস বিকেলবেলা, সাজিয়ে দিবি গল্প-কথায়?

আমার যে এক নিটোল জলের শান্ত পুকুর, বিষাদ-ঘুমে ঘুমিয়ে আছে,
তার বুকে তুই ঢিল ছুঁড়ে দে, ঘুম ভেঙে যাক।
জলের কাঁপন আর আমার এ বুকের কাঁপন হোক একাকার,
সেই আবেশে আমার চোখের নীল-দীঘিতে পদ্ম ফুটুক,
দু’চোখ আমার পদ্ম-পুকুর হয়ে উঠুক।

বসন্ত আর শরৎ দেখি, এরা আমার কেউ ছিলো কি, কোন কালে !
হেমন্তেও আমার উঠোন রিক্ত কেমন!
হাতের মুঠোয়, সোয়েটারের উলের ভেতর,
আমার ঘরে কোথাও কোন উষ্ণতা নেই, হিম অনুভব।
আমার আষাঢ়, আমার শ্রাবণ, বছর জুড়েই;
তবুও আমার সবুজ পাতায় পুকুর জলে ঝরে পড়া বৃষ্টি-ধারায় নেই কলরব।
বন্ধুরে আয়, “তুই” দিয়ে আজ ভরিয়ে দে না, আমার যত শূন্যতা সব।

তুমি নীল প্রজাপতি হও, আমি রক্তজবা হয়ে যাই


তুমি নীল প্রজাপতি হও, আমি রক্তজবা হয়ে যাই

শরতের নাম যদি দেই বৈশাখ,
দখিনের জানালাটা অবিরাম যদি রাখি খুলে,
মৃদু হাওয়া ঘরে ঢুকে ঝড় হলে
বেণীর বাঁধন যদি খুলে যায়, আর আমি রক্তজবা হয়ে যাই,
কেমন হবে বল তো?

দুপুরে স্নানের পর আরশিতে ভেসে ওঠা প্রিয় ভ্রু-জোড়া
মেঠোপথ-জোছনার, মোম-মেয়ে আর আগুনের কথা বলে।


চিবুকের তিল আর খালি পায়ে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া,
রূপকথা হয়ে ওঠে, রাতে ও দুপুরে, রাত্রি দুপুরে।
তপ্ত ঠোঁটের ‘পরে নেমে আসে এক জোড়া ঠোঁট,
উদাসী ডাহুক এক ডেকে নিয়ে যায় বহুদূরে …

নীলাচল পাহাড়ের ছেলে! এই নাও রক্তজবার লাল ;
এসো, তুমি নীল প্রজাপতি হও,
তোমার পাখার নীলে শুদ্ধ হোক আকাশ আমার,
আবারও দু’জনে চলো খালি পায়ে হেঁটে যাই পাহাড়ের পথে,
পেছনের মেঠোপথ হয় হোক পুড়ে ছারখার।

আমাদের পরিচয়



আমাদের পরিচয়

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ধ্বনি হচ্ছে, শব্দ হচ্ছে না

 

ধ্বনি হচ্ছে, শব্দ হচ্ছে না


কাটা-শ্বাসনালী থেকে
বেরুনো বাতাস এসে
ঝাপটা মারছে ছুরির গায়ে;
সেই ফাঁকে, সেই প্রাণের ঘর্ঘরে,
বায়ুপ্রবাহের অপচয়
রোধকল্পে, সম্ভবত -
খিঁচে উঠছে পরাস্ত শরীর।
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি,
অসংখ্য রঙিন বেলুন
শব্দবুদ্বুদের মতো
উড়ে উড়ে ফেটে পড়ছে
অনিবার্য অর্থহীনতায়।
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি,
লেগে-থাকা রক্তের উপরিতল
শুকিয়ে মসৃণ, ম্যাট-লেমিনেটেড!
সামনে ছিল নীলাকাশ, একটু আগেও,
শাদা মেঘ, কালো-কালো পাখি…
অকস্মাৎ বিস্তীর্ণ হলুদ!
যেন দুনিয়ার সব
সর্ষ্যাক্ষেত আকাশে উঠেছে।
আমি ঠিক শুনতে পাচ্ছি,
এ-বাতাস নেহাৎ বাতাস নয়;
খাঁটি বাংলা, আ মরণ, এ যে সমীরণ!
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি,
অন্তরা স্টুডিও পাশে রেখে
ক্লান্ত প্রবীণার মতো
গোরস্তানমুখি পাকা-গলি,
একতলা বাড়ি, জাল-দেয়া জান্লা
ছোট্ট একটা ছাদ,
লোহার মই দিয়া ছাদে ওঠা যেত…
তখন, সবে কলেজগোয়ার্স,
ব্যাঙাচির লেজ খসে পড়েছে কেবল!
এমন রঙিন, বিবেচনাহীন দিন, রাত্রি…
অসংকোচ এমন মহান!
রিকশায় উঠলেই মনে হত
বামপাশে প্রাণ নিয়ে স্বর্গে উড়ে যাচ্ছি,
একবার হাত ধরলে, সারাদিন
আর কিছুই ধরা যেত না!
সেই অধরা দিনের ছবি
আমি ফের দেখতে পাচ্ছি,
একজোড়া মাধুর্যহীন,
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাঁটুর নিচে
দ্বিখণ্ডিত হ’তে হ’তে
আমি যেন শুনতে পাচ্ছি
কারও ফিসফিস,
কারও বিহ্বল, ছলছল জল:
‘রাত্রে যাওয়া হবে না, ট্রেন থাকুক…
কথা শোনা লাগে… কী কুয়াশা…
দিন-দিন বয়স তো কমছে না!
আমি কিন্তু ঝামেলা বাধাবো…’
‘মামী শুনবে!’ ‘না, আম্মা ঘুমাচ্ছে;
আপনাকে একবার তুমি বলি?’
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি,
কাটা-বন্দুকের
বেকার কার্টিজের মতো
ভ্রান্ত নিশানায় ধেয়ে যাচ্ছে
আমার প্রায়-কবন্ধ দেহের
উচ্চারণচেষ্টা সমুদয়;
আমি যেন শুনতে পাচ্ছি,
মানুষের চিরায়ত
আর্তচিৎকারের মতো,
হাত-চাপা গোঙানির মতো,
কাটা-শ্বাসনালী দিয়ে
বাতাস বেরুচ্ছে; ধ্বনি হচ্ছে,
কিন্তু শব্দ হচ্ছে না।

উচ্চরণ


উচ্চরণ

অন্ধকারে ডানা মেলি, মাথার ভেতর আরও অন্ধকার জমা।
মনে হচ্ছে ম’রে যাচ্ছি, ঝ’রে যাচ্ছে জল…
জলে ভেসে-আসা এত বাক্য-সিংহাসন, এত শব্দ-পরিক্রমা
সকলই নকল স্বপ্ন? - খল, সবই খল!
পাঁজরে, পকেটে ভরা সেই হাসি, সেই মুখ অক্ষম-অক্ষমা,
বিপণন-ব্যস্ত-দিনে নিতান্ত অচল।
তবে কি যাত্রাই বৃথা, অনর্থক, নষ্ট, অসম্বল?
দূরের পাহাড়ে ছিল চূড়ায় দুঃখের হাতছানি, প্রলোভন;
অগম্য, অনতিক্রম্য, অ-ছোঁয়ার নেশা।
তার লোভে, আমার ভেতর থেকে বন্ধুদের বিশ্বাসভাজন
কেউ একা ফস্কে গেছে, ভেবেছে অন্বেষা
মানে সমুদ্রমন্থন; ঝিনুকের পাল্লা খুলে মুক্তা-আহরণ
ছাড়া ভিন্নতর কিছু, অন্য কোনও পেশা।
জেনেছে মরার মধ্যে মিশে থাকে বাঁচা-ও হামেশা।
এবং পাহাড় তার নির্লিপ্ত শীর্ষের সোনা রেখেছে উঁচিয়ে;
অবিরাম প্রজ্বলিত অনন্ত অশেষ
সেই আভা, সেই লাভা, সেই প্রণোদনা তীব্র ছড়িয়ে ছড়িয়ে
ভরেছে পতঙ্গ, ঘাস, মাটি নির্বিশেষ।
সমবেত আলোলিপ্সু হাত-পা সকল সেই প্রেরণা ভাঙিয়ে
খুঁটেছে খাদ্যের কণা, রতির উদ্দেশ!
পাদদেশে পাওয়া গেছে প্রাণীদের ত্যক্ত অবশেষ।
আমি ওই পাদদেশে সন্তুষ্ট থাকিনি,
যেখানে সবুজ ঘাস, ছাগলের বিচরণ, ফুল্ল সেমিনার;
যেখানে নিতম্বদম্ভে বিদ্যোৎসাহিনী
জীপে, ও জীপার খুলে মেলে ধরে ভালো মুখ, ভদ্র ব্যবহার;
যেখানে হাতের সুখে পায়ের কাহিনী
লিখে-লিখে মঞ্চ ভরে ভ্রাতা-ভগ্নি, ঘৃত, অগ্নি, পর্নো-পরিবার -
আমি তার পাশ কেটে ছুঁতে গেছি চূড়ান্ত তোমার।