[url=http://www.gulfup.com/?AomQ4i][img]http://www.gulfup.com/G.png[/img][/url]

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১২

অনুভূতিগুলো সব আমার



পুরানা পল্টনের পুরনো বাসাটা ছেড়ে যখন আমরা খিলগাঁওয়ের একটা ছোট্ট দু”কামড়ার বাসায় এসে উঠলাম তখন মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরেই ২ তলার লাবনী আর ৩ তলার মিশি-ঐশী-ত্রয়ী এর সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর ছোট্ট বাসাটাকে আর খারাপ লাগতনা। বরং আমরা পিচচিগুলো তখন পুরা পাড়াটাকেই আমাদের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলাম! মাঠ ছিলনা বলে বাসার সামনের লম্বা রাস্তাটাই ছিল আমাদের সকাল-বিকাল খেলাধূলা করার আদর্শ স্থান।
আমি তখন পড়তাম ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ক্লাস থ্রিতে। ডে শিফটে ক্লাস থাকায় সারাদিন পাড়ার বব্ধুদের সাথে খেলাধূলা করে স্কুলে যেতাম। স্কুল ছুটি হত বিকাল ৪ টায়। কিন্তু বড় আপুদের দেরীতে ছুটি হওয়ায় স্কুল বাস ছাড়তো ৬টায়। এই ২ ঘন্টা স্কুলের মাঠে দাপাদাপি করে বেড়াতাম আমি,মিষ্টি,রিতু আর শান্তা আপু। ক্লাস ৫ এর শান্তা আপুর বুদ্ধিতে স্কুল ছুটির পর এমন কোন দুষ্টুমি নাই যে আমরা করতাম না! খেলাধূলা, গাছ থেকে আম পাড়া, ছোটদের ভুতের গল্প বলে ভয় দেখানো, যাদেরকে পছন্দ করতাম না তাদের কে টীজ করা—এমন নানান আজব আজব কান্ড করে বেড়াতাম আমরা শান্তা আপুর নেতৃত্বে!
এদিকে মিশি-ঐশী-ত্রয়ী,লাবনী আর আমি মিলে একবার পাড়ার বাচচাদের নিয়ে আয়োজন করে ফেললাম sports tournament। একদিন আমরা ঠিক করলাম বিল্ডিং এর সিঁড়ি ঘরে আশেপাশের গরীব ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাব। ওদেরকে নিজেদের বই-খাতা-কলম দিলাম,কিন্তু কয়েকদিন পর বাড়িওয়ালার ঝাড়ি খেয়ে আমাদের স্কুল ভন্ডুল হয়ে গেল! তাই বলে আমরা বসে থাকার পাত্রী ছিলাম না। পাশের বিল্ডিং এর টুসী আপুর ছেলে পুতুলের সাথে ধুমধাম করে লাবনীর মেয়ে পুতুলের বিয়ের ব্যাবস্থা করে ফেললাম। বিয়েতে পুরো পাড়ার সব বাচচারা এসেছিল!একদিন শুনলাম এই ছোট্ট বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমরা। ক্লাস ফোর এ ওঠার পর মর্নিং শিফটে চলে আসার সময় শান্তা আপুকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলাম। সেদিন শান্তা আপুরও চোখ ছিল ছলছলে।
এর ঠিক ৩ বছর পর হঠাৎ করেই একদিন স্কুলের মাঠে দেখি ঐশী! বুঝতে পারলাম ও আমাদের স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছে। আমি দারুন খুশি হয়ে ছুটে গেলাম ওর কাছে, উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললাম, “আরে ঐশী! আমাকে চিনতে পেরেছো? আমি রূম্পা!” ঐশী চোখ সরু করে বলল, “sorry,চিনতে পারছিনা”। ভাবলাম নিশ্চয়ই কোথাও ভুল হচ্ছে। তাহলে হয়তো এই মেয়ে ঐশী না। ঐশী হলে কবেই আমাকে জড়িয়ে ধরতো!আমি একটু দমে গিয়ে বললাম “আরে, আমি ঐ যে খিলগাঁওয়ের রূম্পা। মনে নেই তোমার? তোমার নাম তো ঐশী, তাইনা?” এবার মেয়েটা খুব স্পষ্ট গলায় জবাব দিল, “জ্বি হ্যাঁ,আমি ঐশী। কিন্তু আমি সত্যি খুব sorry আপু, আমি আপনাকে চিনিনা। এই বলে ক্লাসের দিকে দৌড়ে গেল সে। আমি হতবাক হয়ে গেলাম, মাত্র ৩ বছরে ওরা আমাকে ভুলে গেল কি করে?
এভাবে কেটে গেল আরও ৫ বছর,সবে মাত্র কলেজে পা রেখেছি। সিনিয়র আপুদের HSC এর রেজাল্ট আজকে। বেলা দেড়টা থেকেই রেজাল্ট ঘোষণা হয়ে গেল আর আপুদের সাথে আমরাও শুরু করে দিলাম হইহল্লা! হঠাৎ মাঠের এক কোণে দেখতে পেলাম লম্বা,শুকনা মত একটা মেয়ে, বন্ধুদের সাথে খুব আনন্দ করছে। ভাল করে তাকাতেই বুঝতে পারলাম মেয়েটা আর কেউ নয়, আমার হারিয়ে যাওয়া শান্তা আপু! আমি পাশে দাঁড়ানো কয়েকজন বন্ধুকে বললাম, “আরে এ তো আমার শান্তা আপু! তোদের বলেছিলাম না ওর কথা? মনে হয় এ+ পেয়েছে!” ওরাও উত্তেজিত হয়ে বলল, “চল,শান্তা আপুকে অভিনন্দন জানিয়ে আসি!” ছুটে গেলাম শান্তা আপুর কাছে, জড়িয়ে ধরে বললাম, “শান্তা আপু, congratulation! কেমন আছ?” শান্তা আপু কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বলল, “thanks, কিন্তু তোমাকে তো চিনলাম না, আপু”। আমি আপুর হাত ধরে ঝাকিয়ে দিয়ে বললাম, “আমি রূম্পা, সেই যে আমি,তুমি,রিতু আর মিষ্টি স্কুলে কত মজা করতাম মনে আছে তোমার?” আপু আমার হাতের শক্ত মুঠো থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিতে নিতে বলল, “তুমি মনে হয় ভুল করছো,রুম্পা নামে কাউকে আমি মনে করতে পারছিনা”। একগাদা বন্ধুর সামনে আমাকে অপমান করে শান্তা আপু তার বন্ধুদের ভীড়ে মিশে গেল!
৮ বছর আগে কেঁদেছিলাম শান্তা আপুকে ছেড়ে আসতে হবে ভেবে,আর আজ কেন অজান্তেই চোখের জল বেড়িয়ে গেল জানিনা। মানুষ এত সহজে প্রিয়জনকে ভুলে যায় কি করে? নাকি এটাই প্রকৃতির নিয়ম? শুধু আমিই হয়তো প্রকৃতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনদের মনে করে রেখেছি!

অবুঝ বালক



যখন তখন মন খারাপ হয়ে যায় রাজুর। সে কিছুতেই বুঝতে পারেনা, কেন তাকে সবাই এত অবহেলা করে? রাজুর কোন বন্ধু নেই। বিকেলবেলা পাড়ার সব শিশুরা যখন মাঠে খেলাধূলা আর চিৎকার- চেঁচামেচি করে বেরায়, ওকে তখন চুপচাপ বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাজু খেলতে নামলেই পাড়ার ছেলে-বুড়োরা সব টিটকারী মেরে বলে ওঠে, “বুড়া পোলার শখ কত। বাচচাদের সাথে খেলতে আসছে!” রাজু ভেবেই পায়না,কেন সবাই তাকে বুড়া পোলা বলে ডাকে? ওর ও তো পাড়ার বাচচাদের সাথে সারাক্ষণ খেলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু কেউ ওকে খেলায় নিতে চায়না!
রাজু শুনেছে ওর জন্মের কারণেই নাকি ওর বাবা ওদেরকে কে ছেড়ে চলে গেছে! কথাটা কতটুকু ঠিক, কে জানে। রাজু বোঝেনা,ও জন্মাতে সবার কেন এত রাগ? ওর বড় আপু আর ভাইয়াও খুব বাজে ব্যবহার করে ওর সাথে! ভাইয়াটা তো সময়-অসময়ে থাপ্পড় মেরে বসে ওর গালে! আর তাতে রাজু একটু কান্না করলেই হয়েছে, সারা বাড়ি মাথায় নিয়ে ভাইয়া বলতে থাকে, “বুড়া ছেলে বাচচাদের মত নাকি কান্না কাদতে বসেছে”। রাজু বুঝতেই পারেনা,কেন ভাইয়া ওর মত একটা ছোট একটা বাচচাকে ‘বুড়া ছেলে’ বলে? রাজুর তো বয়স মাত্র ১৬! এখনও মামনি ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়, গোসল করিয়ে চুল আচড়ে দেন। খেলনা গাড়ি আর লোগো সেটগুলোই ওর প্রিয় বন্ধু। না,না, আসলে মামনি রাজুর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। একমাত্র তিনিই রাজুকে বুঝতে পারেন।রাজুর সব আব্দার-অভিযোগ মনযোগ দিয়ে শোনেন আর নীরবে রাজুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদেন। সে যখন মা’র চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে, “মা,কাঁদো কেন?” মা তখন নীরবতা ভেঙ্গে হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠেন।
রাজু স্কুলে যেয়ে শুনেছে আজ নাকি ‘মা দিবস’। ‘মা দিবস’ মানে কী,সেটা না বুঝলেও,এটা বুঝতে পারল যে আজ মা এর জন্য বিশেষ একটা দিন। রাজুতো এ পথিবীতে সবচেয়ে ভালোবাসে মামনিকে। তাই ও ঠিক করল আজ একটা কিছু উপহার দিয়ে চমকে দেবে মামনিকে। উপহার কেনার জন্যতো টাকা চাই। কিন্তু সে টাকা কোথায় পাবে? মা তো অফিসে গেছেন। আপুর কাছে টাকা চাইতেই সে ১০ টাকা দিয়ে বলল, “যা যা, আইস্ক্রীম কিনে খা,হাবলু”। রাজুকে সবাই ‘হাবলু’ ডাকে— ওর মন খারাপ হয়ে যায়।
অনেক চিন্তা ভাবনার পর রাজুর মনে পড়ল গত বছর বৈশাখী মেলায় মামনি তাকে একটা মাটির ব্যাঙ্ক কিনে দিয়েছিল, আর সেটাতে টাকা জমানোর জন্য মা তাকে মাঝে মাঝে ৫-১০ টাকা দিতেন। ব্যাঙ্কটা আলমারী থেকে নামিয়ে ভেঙ্গে ফেলল সে, পেল উপহার কেনার মত বেশ কিছু টাকা। সবাই বলে রাজু নাকি হাবলু,বোকা। কিন্তু আজই সবাই বুঝে যাবে যে ছোট রাজুর মাথায়ও কত বুদ্ধি আছে! কাছের একটা দোকান থেকে একটা কেক কিনে আনল সে। আম্মুকে খুশি করার জন্য ঘর-দোর গুছাতে লাগল। ঘর গোছাতে যেয়ে অবশ্য দুটো প্লেট ভেঙ্গে ফেলেছে ও! ভাগ্যিস ওগুলো আপু-ভাইয়া দেখেনি,তাহলে নির্ঘাত কান মলানি খেতে হত আজ।
আপু আর ভাইয়া একবার এসে দেখে গেল কেকের বাক্সটা। ভাইয়া ভেংচি কেটে বলল, ‘গবেট রাজু,কেক এনেছিস ভাল কথা, কিন্তু এই কেক কাটবি কিভাবে বলতো? নাকি তোর মত সবাইকে অভদ্র ভাবিস, যে বাচচাদের মত থাবা দিয়ে দিয়ে সবাই কেক খাবে!”এই কথা শুনে রাজু মাথা চুলকাতে থাকে,তাইতো, কেকটা কী দিয়ে কাটবে? কেক কাটার জন্য যেন কী লাগে? রাজুর বয়স ১৬ হলে কী হবে? সে তো আর সব বাচচার মত স্বাভাবিক হয়ে জন্মায়নি, আর সব মানুষের মত স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন নয় সে! সে ভাবল, মা তো কাপড় কাটার জন্য কেঁচি ব্যবহার করেন, তাহলে নিশ্চয়ই কেক কাটার জন্যো কেঁচি লাগে? সে দৌড়ে মামনির সেলাইয়ের বাক্স থেকে কেঁচিটা নিয়ে আসে। তাই দেখে আপু-ভাইয়া তো হেসেই খুন। আপু মাথায় চাটি মেরে রাজুকে বলল, “গাধা ছেলে, কেঁচি দিয়ে কেক কাটেনা, ছুরী দিয়ে কাটা হয়”।
রাজু মাথা চুলকায়, তাইতো সে তো ভুলেই গিয়েছিল যে কেক কাটা হয় ছুরী দিয়ে। কিন্তু সে এখন ছুরী কোথায় পাবে? বাজার থেকে কিনে আনবে? মামনি যে এক্ষুণি চলে আসবে অফিস থেকে! ঝেড়ে দৌড় দিল সে দোকানের উদ্দেশ্যে। ওর বড় মাথার ছোট বুদ্ধিতে একবারও ভেসে উঠলনা যে, বাসার রান্না ঘরেই রয়েছে ওর কাংখিত ছুরী! রাজু দৌড়াচ্ছে, দৌড়াচ্ছে। ওর মাথায় ঝড়ের বেগে বয়ে চলেছে একটা নির্দেশ, মা বাড়ি ফেরার আগেই ওকে ছুরী যোগাড় করতে হবে! বড় রাস্তায় উঠেও রাজুর মনে থাকেনা যে একটা ঘাতক ট্রাক ছুটে আসছে ওকে লক্ষ্য করে!
রাজু এ নিষ্ঠুর পৃথবী থেকে চলে যাওয়াতে আর সব মানুষজন হাঁফ ছেড়ে বাচলেও মামনির কান্না যেন আর থামতেই চায়না। এ পৃথবীর সবার কাছেই রাজু ছিল একটা বোঝা, কিন্তু মামনির কাছে রাজু ছিল অমূল্য ধন। গোরস্থান থেকে ফিরে এসে ভাইয়া পড়ার টেবিলে দেখতে পেল সেই কেকের বাক্সটা। বিরক্ত হয়ে বাক্সটা বাস্কেটে ফেলে দিতে যেয়েও কী মনে করে বাক্সের ঢাকনাটা খুলতেই দেখতে পেল একটা সুন্দর কেকের ওপর গোটা গোটা করে লেখা, “ ভালবাসি মামনিকে, ভালোবাসি আপু-ভাইয়াকে”। অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে নামল, এই প্রথম রাজুর জন্য কাঁদল ভাইয়া!

Agar Tum Kaho


Main Koi Aisa Geet Gaoon
Ki Aarzoo Jagaoon
Agar Tum Kaho
 
Tumko Bulaoon
Ye Palkhein Bichhaoon
Kadam Tum Jahan Jahan Rakho
Zameen Ko Aasmaan Banaoon
Sitaron Se Sajaoon
Agar Tum Kaho
 
Main Titliyon Ke Peechhe Bhagoon
Main Jugnuon Ke Peechhe Jaoon
Ye Rang Hai Vo Roshni Hai
Tumhare Paas Dono Laoon
Jitni Khushbuain Baag Mein Milein
Main Laoon Vahan Pe
Ki Tum Ho Jahan Jahan Pe
Ek Pal Bhi Thehro
Main Gulsitaan Banaoon
Agar Tum Kaho
 
Agar Kaho To Main Sunaoon
Tumhein Haseen Kahaniyaan
Sunogi Kya Meri Zabani
Tum Ek Pari Ka Daastaan
Ya Main Karoon Tumse Bayaan
Ki Raja Ko Rani Mili Thi Kahan
Kahaniyon Ke Nagar Mein Tumhein Leke Jaoon
Agar Tum Kaho

Tu pyaar hai kisi aur

 
Tu pyaar hai kisi aur ka
Tuzhe chaahtaa koi aur hai
Tu pasand hai kisi aur ki
Tuzhe maangtaa koi aur hai

Kaun apna hai
Kya begaanaa hai
Kya hakeekat hai
Kya fasaanaa hai
Ye jamaane mein
Kisne jaanaa hai
Tu najar mein hai kisi aur ki
Tuzhe dekhtaa koi aur hai Pyaar mein aksar
Aisa hota hai
Koi hanstaa hai
Koi rotaa hai
Koi paataa hai
Koi khotaa hai
Tu jaan hai kisi aur ki
Tuzhe jaantaa koi aur hai

Sochti hoon main
Chup rahoon kaise
Dard dil kaa yeh
Main sahoon kaise
Kashmakash mein hoon
Ye kahoon kaise
Mera humsafar bas yek tu
Nahin doosraa koi aur hai

শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১২

বন্ধুত্ব


এপ্রিল ২৭, ২০১২

অনলাইনে বন্ধুত্ব— ব্যাপারটা একদম পছন্দ ছিলনা আমার। এক রাতে হঠাৎ করেই ছেলেটার সাথে অনেক কথা শেয়ার করে ফেললাম , কেন যেন মনে হছিল, সে আমার খুব ভাল বন্ধু হতে পারবে। আর হয়েছিলও তাই। প্রায় তিন ঘন্টা চ্যাট করার পর তাকে আমি লিখলাম , “can I call you TUMI?” আমাকে অবাক করে দিয়ে সে লিখল, “না,তুমি না ‘তুই’!” ব্যাস,সেই থেকে আমাদের বন্ধুত্বের শুরু।
আমি ব…ই পড়তে ভীষণ ভালোবাসি, পশ্চিম বাংলার লেখকদের লেখার সাথে যথেষ্ঠ পরিচয় থাকলেও, দেশীয় লেখকদের বই খুব কমই পড়া হয়েছিল আমার। কারণ, আশেপাশের দোকানগুলোতে পশ্চিম বঙ্গের ফটোকপি বইগুলো রাখা হয়, যা দামে সস্তা আর এগুলোর ক্রেতাও তাই বেশি। এই কথাগুলো বন্ধুকে জানাতেই সে ঢকার নীল ক্ষেত,আজিজ মার্কেট আর নিউ মার্কেট ঘুরে বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিন আর দেশীয় লেখকদের বই কিনে পাঠাল। অস্বীকার করবোনা, লিটল ম্যাগাজিনের সাথে সেটাই ছিল আমার প্রথম পরিচয়! আর তা সম্ভব হল আমার এই অনলাইন বন্ধুটির মাধ্যমেই।
বন্ধুটা অনেক স্বেচ্ছা সেবামূলক কর্মকান্ডে অংশ নিত দেখে অনেক ভাল লাগতো, ইচ্ছে করত, আমিও অংশ নিই। প্রতি মাসের পাঁচ তারিখে সে মনে করিয়ে দিত, ‘ আজ আমাদের বন্ধুত্বের ২ মাস, কিংবা ৪ মাস পূর্ণ হল!” অথচ আমার একদমই মনে থাকতনা কবে ৫ তারিখ আসে,আবার চলেও যায়। একদিন শুনতে পেলাম সে আর তার মামনি দেশের বাইরে চলে যাছে। প্রথমে কথাটা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু একদিন সত্যিই বন্ধুটা ভিসা পেয়ে গেল। সেদিন কেন যেন আচমকা চোখ দিয়ে জল বের হয়ে এল! আর সেদিনই বুঝতে পারলাম আমি তাকে বন্ধুত্বের খুব গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসিয়ে ফেলেছি, যা আগে বুঝিনি!
আমাদের মাঝে ঝগড়া হত প্রচুর, একজন আর একজনকে সবসময় খোঁচা মেরে কথা বলতাম। ফেসবুকে কোন গ্রুপে কিংবা ব্লগারদের আড্ডায় আমাদের ঝগড়াটা ছিল সবার কাছে বেশ উপভোগ্য ব্যাপার, অনেকে আবার বিরক্তও হয়ে যেতেন। বন্ধু চিন্তায় ছিল, বিদেশে চলে গেলে তার সংগ্রহের গল্পের বইগুলোর কী হবে? যেহেতু আমি প্রচুর গল্পের বই পড়ি তাই সে আমাকে তার অর্ধেকেরও বেশি বই দিয়ে দেয়! কেউ কোন কিছু গিফট করলে ভদ্রতাবশত আমরাও তাকে কিছু উপহার দিতে চেষ্টা করি, কিন্তু বই আমি এত্ত ভালোবাসি আর ব্যাপারটা এতই অপ্রত্যাশিত ছিল আমার কাছে যে বন্ধুকে এর বদলে কী দেয়া যায় কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলামনা। বইগুলো আমার কাছে এত দামী যে এগুলোর বদলে সামান্য একবেলা ফাস্টফুড খাইয়ে কিংবা কোন শো পিস উপহার দিয়ে তাকে ছোট করতে মন চাইছিলনা।
জানতাম আর দেখা হবে না আমাদের, আর তাই এমন ভাব করতে লাগলাম আমি আর মামুন, যেন আমরা খুবই আনন্দিত, যেন কোন বন্ধু বিদেশে চলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা! এটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কোন মানে থাকতে পারেনা! যদিও মন খুব খারাপ ছিল এবং তার দিকে চোখ তুলে তাকাতেও পারছিলাম্ না, কারণ তাকালেই হয়তো কেঁদে দিব একগাদা ভীড়ের মাঝেই! যাকে চলে যেতেই হবে তাকে আর শুধু শুধু কষ্ট দিয়ে কী লাভ?
একদিন বন্ধুটা চলেও গেল দেশের বাইরে, সেটা মার্চ মাসের কোন এক দিনে। জানতাম,ফেসবুকে ঠিকই যোগাযোগ থাকবে,শুধু অভ্যাসবশত যখন তখন তাকে খেজুড়ে আলাপ করার জন্য ফোন দিতে বলতে পারবোনা, তামিম পরপর দুটো ছক্কা মারলে সাথে সাথেই মেসেজ দিয়ে আমার আনন্দানুভূতিটা তাকে জানাতে পারবোনা। মার্চের ৫ তারিখ চলে এল, ফেসবুকের সামনে বসে ছিলাম, এই বুঝি বন্ধুটা বলবে, আজ আমাদের বন্ধুত্বের ‘এত’ মাস হল। কিন্তু না,কারো কোন সাড়াশব্দই পেলাম না। বিদেশে গিয়ে মাত্র ২ দিনেই ভুলে গেল সবকিছু? হতাশ হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম, পরদিন সকালে উঠে ফেসবুক খুলতেই ইনবক্স এ দেখতে পেলাম বন্ধুর মেসেজ, “দোস্ত, আজ আমাদের বন্ধুত্বের সাত মাস পূর্ণ হল!” আরে! তাইতো! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার বন্ধুটা আমেরিকায় যেয়ে আমার সময় থেকে এখন ১০ ঘন্টা পিছিয়ে আছে, আর তাই এই সামান্য দেরী হল মেসেজ পাঠাতে…। আর আমি কী ভাবছিলাম!!

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১২

সে আমার বন্ধু ছিল



এপ্রিল২৬, ২০১২

মোবাইল ফোনটা বেজেই চলেছে তো বেজেই চলেছে। উফ! অসহ্য! আর কত জ্বালাবে আমাকে ওই ছেলেটা? সহ্যেরও তো একটা সীমা থাকে। বার বার লাইন কেটে দেয়ার পরও সমানে কল দিয়ে যাচ্ছে। এমন নাছোড়বান্দা জীবনে আর দ্বিতীয়টি দেখি নাই।
বাধ্য হয়ে অবশেষে ফোনটা রিসিভ করলাম। ‘হ্যালো’।ও প্রান্ত থেকে ভেসে এল জুয়েলের গলা, ‘হ্যালো শর্মি, আমার মনটা আজ ভাল নেই রে’। তোমার মন ভাল নাই তো আমার কি? যার তার মন ভাল করার চাকরি নিয়েছি নাকি আমি? আজব! কথাগুলো মনে মনে বললেও মুখ ফুটে ওকে বলতে পারলাম না। দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, ‘আমি একটু ব্যস্ত আছি ভাইয়া’। ওপাশ থেকে জুয়েলের দী্র্ঘ নিঃশ্বাস পতনের শব্দ শুনলেও পাত্তা দিলাম না। সে বলল, ‘ তুই তো এখন সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকিস। আচ্ছা ফ্রি হলে ফোন দিস তাহলে’।
ছেলের কথা শুনে বিরক্তি যেন চরমে উঠল। চেপে চেপে বললাম, ‘আমার ব্যালেন্স শেষ ভাইয়া’। কেটে দিলাম কলটা। আহ, শান্তি! যাক বাবা, অন্তত আধা বেলার জন্যে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে এই আপদ থেকে। অবশ্য জুয়েল নামের এ আপদটাকে একসময় আমিই ডেকে এনেছিলাম আমার জীবনে!
কুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছিলাম আমি। কারণ আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমি বুয়েটে পড়ব। এখানে নতুন কোন বন্ধু তো হয়ইনি উলটো স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সাথেও এক এক করে দূরত্ব বাড়তে লাগল। আমার প্রেমিক ইমনকে নিয়েও সন্দেহ করা শুরু করলাম! নষ্ট হতে লাগল ওর সাথে আমার সম্পর্ক। গান পাগল আমি গান শোনা বন্ধ করলাম, পড়ার বই এর ফাঁকে ফাঁকে গল্পের বই পড়াও ছেড়ে দিলাম। একসময়কার মেধাবী স্টুডেন্ট আমি পড়াশোনাতেও লাড্ডু পেতে থাকলাম! আসক্তি জন্মাল মিগ৩৩ এর প্রতি। দিন নেই,রাত নেই সারাক্ষণ শুধু মোবাইল টেপাটেপি করতাম। ‘মিগ’ এর মত ভার্চুয়াল জীবন হয়ে গেল আমার কাছে বাস্তব! মিগ এর তথাকথিত বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারি,তাদের সুখে হাসি আর তাদের দুঃখে কেঁদে ফিরি! এতদিন জানতাম হতাশ মানুষ drug addicted হয়ে যায়। কিন্তু আমি দিন দিন পরিণত হতে লাগলাম mig addicted এ!!
এমনি এক মুহূর্তে জুয়েলের সাথে আমার মিগ এ পরিচয় হল। ওর কাছে খুলে বললাম আমার অতীতের উজ্জ্বল দিনগুলোর স্মৃতি, বর্তমানের অন্ধকারময় জীবনের কথা। সব শুনে জুয়েল আমাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল। ওকে আমার ফোন নাম্বার দিলাম। এভাবে গড়ে উঠল আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব। ‘তোর আসলে বন্ধুর চেয়ে একজন care taker এর দরকার বেশি,বুঝলি’? জুয়েলের কথা শুনে হাসলাম আমি। ‘তাহলে তুমি আমার care taker হয়ে যাও ভাইয়া’, বায়না ধরলাম ছোট বাচচাদের মত।জুয়েল আমার বন্ধু বা care taker হতে রাজী হল। সেই সাথে জানিয়ে দিল তার জীবনের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা— পরবর্তী সপ্তাহ থেকে তার মেডিকেল কলেজে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু। তার একজন প্রেমিকা আছে, তাই আমাকে যে সে সবসময় সময় দিতে পারবে , এমন কোন প্রতিশ্রুতি সে দিতে পারছেনা। আমি সানন্দে রাজী হলাম তার শর্তগুলো শুনে। আসলে ঐ সময়টায় খুব ভাল একজন বন্ধু দরকার ছিল আমার, যে কিনা আমাকে প্রতিনিয়ত guide করে আমার বিশৃংখল জীবনটাতে শৃংখলা এনে দিতে পারবে।
‘ ভাইয়া আমি আমার ২ বছর আগের জীবনটা ফিরে পেতে চাই’,আমার এরকম কথা শুনে জুয়েল আমাকে আশ্বস্ত করল, ‘ইনশাল্লাহ ফিরে পাবি আপু। শুধু আমি যেভাবে বলব সেভাবে কাজ করে যা। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে’। জুয়েল প্রথমেই আমার জন্য যা করল তা হল আমার জীবন থেকে ও মিগ৩৩ কে অনেক দূরে পাঠিয়ে দিল। বলল, ‘একা একা লাগলে আমাকে কল দিবি।কিন্তু মিগ এ ঢুকবিনা খবরদার’। সেদিনই মোবাইল থেকে মিগ ফোল্ডার মুছে দিলাম। সকাল নেই ,বিকেল নেই কলেজে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলতে লাগলাম আমার নতুন বন্ধুকে। যে আমি আগে মাসে ৫০ টাকাও রিচার্জ করতাম কিনা সন্দেহ,সেই আমি এখন দিনে ৫০ টাকা শেষ করে ফেলি ভাইয়াকে ফোন করতে যেয়ে!
কিন্তু একদিন কল করার পর পরই জুয়েল ভাইয়া বলল, ‘ঐ পাগলী, ফোনটা রাখতো। রিয়া waiting এ আছে,এখন কল রিসিভ না করলে আমাকে আবার বকবে,’ ফোনটা কেটে দিতেই চোখ ভরে গেল জলে! আমার চেয়ে ঐ প্রেমিকা রিয়াই তাহলে তোমার কাছে অনেক বড় তাইনা? কেন জানি খুব হিংসা হচ্ছিল রিয়া নামের অচেনা মেয়েটিকে। এক বিকেলে জুয়েল বলল, ‘ শোন,এখন থেকে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে তোর প্রিয় গানগুলো আবার আগের মত করে শুনবি,বুঝলি?’ ওর কথামত আমি আবারও গান পাগল হয়ে উঠলাম! একদিন ভোরবেলা কল দিয়ে বলল, ‘ কিরে,ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সকালটা মাটি করছিস কেন? নামাজ পড়ে পড়াশোনা করতে বস,যা’।সেই থেকে খুব ভোর থাকতেই ঘুম ভেঙ্গে যেত আমার! ‘ভাইয়া আমার না ভার্সিটিতে কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাই জান?’ কথাটা বলতেই জুয়েল বলে উঠল, ‘বন্ধু পাওয়ার জন্য আগে নিজেকে sacrifice করতে শেখা লাগে। দেখবি তখন তোর বন্ধুর অভাব হবে না’। ভাইয়ার কথা শুনে চলতেই ঠিকই কয়েকদিন পর আমার খুব ভাল একটা friend circle গড়ে উঠল!
একদিন সন্ধ্যেবেলায় জুয়েলকে কল দিচ্ছি কিন্তু ও বারবার লাইন কেটে দিতে লাগল। আধা ঘন্টা পর ফোন ধরতেই এক রাশ অভিমান ঝরে পড়ল আমার কন্ঠ বেয়ে, ‘কি ব্যাপার ফোন কেটে দিচ্ছো কেন?’ জুয়েল কৈফিয়ত দিল, ‘sorry আপু,রুমমেটের কাছ থেকে পড়া বুঝে নিচ্ছিলাম রে’। সে আমাকে কখনই বুঝতে দেয়নি যে সে কতটা টেনশন এ আছে তার পরীক্ষা নিয়ে। ওর পরীক্ষার পুরা ২ টা মাস সে আমার সাথে কথা বলেছে কোন বিরক্তি প্রকাশ করা ছাড়াই,আমাকে guide করেছে। ইমনের সাথে আমার দূরত্বের কথা শুনে ভাইয়া বলল, ‘ইমন তোর জন্য কি করেনি সেগুলো না ভেবে,কি করেছে সেগুলা আগে চিন্তা করে দ্যাখ’। বললাম, ‘ইমন তেমন কিছুই করেনি।তবে পরীক্ষার সময় ও নিজের পরা বাদ দিয়ে আমাকে পড়িয়ে পরীক্ষার হলে পাঠাতেই বেশি ব্যস্ত থাকত’। এভাবে ভেবে ভেবে অনেক কিছুই বের করলাম,যা ইমন আমাকে ভালবাসে বলেই করে। ধীরে ধীরে ইমনের উপর থেকে আমার করা অভিযোগগুলো কমতে লাগল। আমি যেন আবারও নতুন করে ইমনের প্রেমে পড়লাম!
ছোটবেলায় টুকটাক লেখালেখি করতাম। জুয়েলের উৎসাহে লেখালেখি আবারও শুরু করে দিলাম। পাঠাতে লাগলাম পত্র-পত্রিকাগুলোতে।আর কি আশ্চর্য সেগুলা এক এক করে ছাপাও হতে থাকল! আস্তে আস্তে মাস দুয়েক পর বুঝতে পারলাম আমি আমার হারানো জীবনটা ফিরে পেয়েছি।চারপাশে বন্ধুর সমারোহ, প্রেমিকের ভালবাসা,পড়াশোনায় ভাল ফলাফল,লেখালেখি,গান আর গল্পের বই নিয়ে সাজানো সেই হাসি-খুশি প্রাণ-চঞ্চল শর্মিকে নিজের মাঝে খুঁজে পাচ্ছি আমি!
বন্ধু, প্রেম আর পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় জুয়েলকে খুব একটা ফোন দেয়া হতনা। আগে যেখানে দিনে ৬-৭ বার ফোন দিতাম,এখন ওর সাথে আমার কথাই হয় ৫-৬ দিন পর পর! দিন দশেক আগে সে জানাল, রিয়ার সাথে ইদানিং নাকি ওর সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছেনা। ভাল না গেলে আমার কি করার আছে,আজব তো, আমাকে কেন ফোন করে এসব বলা হচ্ছে? খেয়ে দেয়ে আর কোন কাজ নাই নাকি ওর? গত সপ্তাহে জানাল,তার রেজাল্ট বেরিয়েছে এবং ১ টা বিষয়ে নাকি খারাপও করেছে, ২ মাস পর আবার সেই পরীক্ষাটা দিয়ে তবেই জুয়েল MBBS পাশ করতে পারবে। কিন্তু এসব কথা আমাকে বলে কি লাভ বুঝলাম না। আমি কি ওর হয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে আসব নাকি?সামনে আমারো পরীক্ষা, লেখালেখি নিয়েও ভীষণ ব্যস্ততা। এর মাঝে এই ছেলের যন্ত্রণা সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে আমার খুব। এখন আমার মনের কথা শোনার জন্য ইমন আছে,উৎসাহিত করার জন্য আছে প্রিয়াংকা,তুলি,মানস,রবি,তারিন এর মত বন্ধুরা। কোথাকার কোন এক জুয়েল,যাকে কোনদিন দেখিনি,যার সম্পর্কে কিছু জানিনা,তার জন্য ফালতু কাজে সময় নষ্ট করার মত সময় আমার হাতে নেই এখন!
আবারও মোবাইলটা বাজছে! নাহ।এবার দেখি সিম কার্ডটা বদল করতেই হবে। প্রচন্ড রাগে মোবাইল থেকে খুলে ফেললাম সিমটা। আঙ্গুলের সর্বশক্তি প্রয়োগে ভেঙ্গে ২ টুকরো করে ফেললাম জুয়েলের সাথে আমার সম্পর্ক,আমাদের ৩ মাসের বন্ধুত্ব!!